আমরা প্রতিদিনই কোনো না কোনো মানুষকে ভালোবাসি, অপছন্দ করি, কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ি আবার কারও থেকে দূরে সরে যাই। কিন্তু খুব কম মানুষই নিজেকে প্রশ্ন করে-এই ভালোবাসা আর শত্রুতা কি আল্লাহর জন্য, নাকি নিজের প্রবৃত্তির জন্য?
ইসলাম আমাদের অনুভূতিগুলোকেও শুদ্ধ করতে চায়। কারণ ঈমান শুধু নামাজ–রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; হৃদয়ের ভালোবাসা ও শত্রুতাও ঈমানের অংশ।
আল্লাহর জন্য ভালোবাসা যেমন?
আল্লাহর জন্য ভালোবাসা মানে হলো-
কোনো মানুষকে ভালোবাসা তার দ্বীনদারি, আল্লাহর আনুগত্য ও নৈতিকতার কারণে।
এই ভালোবাসার পেছনে কোনো দুনিয়াবি স্বার্থ, লাভ বা পরিচয় কাজ করে না।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন-
সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ সেদিন তাঁর ছায়ার নিচে রাখবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না… তাদের মধ্যে দুই ব্যক্তি এমনও থাকবে, যারা আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবেসেছে; আল্লাহর জন্যই একত্র হয়েছে এবং আল্লাহর জন্যই বিচ্ছিন্ন হয়েছে। -সহীহুল বুখারী
এই হাদিস আমাদের শেখায়, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এত মর্যাদাপূর্ণ যে কিয়ামতের ভয়ংকর দিনে তা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আল্লাহর জন্য শত্রুতা বলতে যা বোঝায়?
এখানে একটি বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি।
আল্লাহর জন্য শত্রুতা মানে কাউকে গালি দেওয়া, জুলুম করা বা মানবিক আচরণ ভুলে যাওয়া নয়।
আল্লাহর জন্য শত্রুতা বলতে বোঝায়-
পাপকে অপছন্দ করা।
আল্লাহর অবাধ্যতাকে ঘৃণা করা।
অন্যায়ের সাথে আপস না করা।
কিন্তু মানুষ হিসেবে:
ন্যায্য আচরণ করা।
সীমা লঙ্ঘন না করা।
হিদায়াতের দোয়া করা- এগুলোই একজন মুমিনের আদর্শ।
ইসলাম ব্যক্তি নয়, অন্যায় কাজের বিরোধিতা শিক্ষা দেয়।
কেন এই ভালোবাসা ও শত্রুতা ঈমানের মানদণ্ড?
কারণ একজন মানুষ যা ভালোবাসে, সেটার দিকেই তার জীবন ঝুঁকে পড়ে।
আর যা ঘৃণা করে, তা থেকে সে দূরে থাকে।
যদি-
হারামকে ভালো লাগে।
গুনাহের মানুষদের অন্ধভাবে অনুসরণ করা হয়।
সত্য বললে সম্পর্ক ভেঙে যায়- এই ভয় কাজ করে।
তাহলে বুঝতে হবে ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ছে।
আর যদি-
সত্যের পথে থাকা মানুষকে সম্মান করা হয়
গুনাহের কাজ অপছন্দ হয়
আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে এমন ট্রেন্ড থেকে দূরে থাকা যায়
তাহলে সেটাই ঈমানের সুস্থতার লক্ষণ।
বাস্তব জীবনে আমরা কীভাবে এটি প্রয়োগ করবো?
১. বন্ধুত্ব বাছাইয়ে সতর্কতা
যে বন্ধু আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দেয়, সে যত প্রিয়ই হোক- সেই সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
২. সোশ্যাল মিডিয়ার ভালোবাসা নিয়ন্ত্রণ
যাকে ফলো করি, যাকে আইডল বানাই- তারা কি আমাকে দ্বীনের কাছাকাছি নেয়, নাকি দূরে সরিয়ে রাখে?
৩. সত্যের পক্ষে থাকা
ভালোবাসা যেন কখনো অন্যায়ের পক্ষে দাঁড় করিয়ে না দেয়।
উপসংহার
আল্লাহর জন্য ভালোবাসা হৃদয়কে নরম করে,
আর আল্লাহর জন্য শত্রুতা হৃদয়কে সোজা রাখে।
এই দুইয়ের ভারসাম্যই একজন মুমিনকে আল্লাহর পথে স্থির রাখে। তাই প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার-
আমি যাকে ভালোবাসছি, কেন ভালোবাসছি? আর যাকে অপছন্দ করছি, সেটা কি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য?
এই প্রশ্নের সৎ উত্তরই ঈমানের আয়না।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল মানুষকে ধর্মের পথে চলার অনুগ্রহতে ভূষিত করুক। (আমিন)
